শফিক হাসান মূলত গল্পকার, তবে অল্প-বিস্তর সবই লেখেন। মাড়াতে চান সাহিত্যের নানাবিধ বিস্তৃত প্রান্তর। জন্ম ২ জানুয়ারি, ১৯৮৩ সালে— তিতাহাজরা, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালীতে।
সাহিত্যসাধনা, লেখালেখিকে করে তুলেছেন জীবনের ব্রত। যে কারণে প্রথাগত উচ্চশিক্ষা তথা লোভনীয় চাকরির পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দেননি তথা দিতে পারেননি। অবশ্য কৃষক পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্রটি কীভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সকল ধারা-সংস্কৃতির বাইরে এসে কালো অক্ষরের প্রেমে বুঁদ হয়ে উঠলেন সেটাও বড় এক (বিপন্ন) বিস্ময়। এই বাঁকবদল, সীমানার বাইরে বেরিয়ে এসে মুক্ত আলোয় ডানা মেলার প্রচেষ্টার কারণে কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। ভোগবাদী দুনিয়ায় বিপরীতমুখী পথে হাঁটলে, এসবের জন্য পরিপার্শ্বের মানুষের চক্ষুশূল হওয়াই স্বাভাবিক। লেখালেখির কারণে নন্দিত ও নিন্দিত দুটোই হয়েছেন শফিক হাসান। এখনো নিজ বলয়ে গাল-মন্দ কম শুনছেন না! সেটা খুবই স্বাভাবিক— আড়ম্বরপূর্ণ পৃথিবীতে, বিত্ত-বৈভবের মাপকাঠিতে মূল্যায়ন হয় স্থূল সমাজে। এখানটাতে তিনি বরাবরই পিছিয়ে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ভবিষ্যতে আরও অবনমন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে!
লেখালেখি ও সম্পাদনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সাব এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে। সহকারী সম্পাদক, প্রধান প্রতিবেদন, নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন কয়েকটি মাসিক ম্যাগাজিনের। বর্তমানে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০৪ সাল থেকে সম্পাদনা করছেন গল্পবিষয়ক লিটল ম্যাগাজিন ‘প্রকাশ’। অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ছোটগল্পের জন্য ‘অনুপ্রাণন’, ‘অপরাজিত’ ও ‘ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল সম্মাননা’; রম্যরচনায় পুরস্কার পেয়েছেন ‘অর্বাচীন-উপমা’ এবং ‘স্মৃতি সংঘ ও সাহিত্য সংসদ’ থেকে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) নদিয়া থেকে অর্জন করেছেন ‘খোলা চিঠি’ সম্মাননা।
প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় কিশোর অবস্থায়; ১৯৯৫ সালে, সেবা প্রকাশনীর মাসিক ম্যাগাজিন রহস্যপত্রিকায়। তারপর ধীরে ধীরে শিল্পের পথযাত্রী হয়ে বাধা-বিঘ্ন পেরোনোর প্রচেষ্টা, হাঁচড়েপাঁচড়ে এগোনোর কসরত— অব্যাহত এখনো। গল্প, রম্যরচনা, ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন। জীবিকার তাগিদে টেলিভিশন নাটক লিখে দিয়েছেন অন্যের নামে। সস্তা দরে কিছু লেখাও বিক্রি করেছেন, যেসব প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে। কলাম লিখেছেন জাতীয় দৈনিকে, অনলাইন নিউজ পোর্টালে।
শখের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি— বই পড়া, ভ্রমণ করা, সিনেমা দেখা। পছন্দ করেন নীল আকাশ ও টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শুনতে। পাহাড় ও সমুদ্র দুই-ই সমান প্রিয়। নদ-নদীও ভীষণ পছন্দের। ক্রমান্বয়ে পা ফেলতে চান বাংলাদেশের প্রতিটি পথে-প্রান্তরে; গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। স্বদেশের ধূলিকণা মাখিয়ে নিতে চান শরীরে, মনোগহিনে। পরিবেশ ও প্রকৃতি পাঠের পাশাপাশি সনাক্ত করতে চান বিচিত্র ধরনের মানুষের মুখ ও মুখশ্রী। সমতল থেকে পাহাড় সবই তার স্বপ্নের বিচরণক্ষেত্র।
স্বপ্ন দেখেন, জীবন-জীবিকার দৌড় থামলে গ্রামে স্থায়ী হবেন। কাছ থেকে শুনবেন মানুষের জীবনের গল্প। অবলোকন করবেন অধরা সুন্দর কিংবা রূপবতী নিসর্গ। মেঠোপথে, ধানখেতের আইলে বসে জিরিয়ে নেবেন একটুখানি। শফিক হাসানের সহধর্মিণী নূরজাহান রুনা গৃহিণী, একসময়ে শিক্ষকতা করতেন। স্কুলপড়ুয়া দুই পুত্রসন্তানের জনক— আরিয়ান তূর্য, ধ্রুব অরণ্য। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৩টি। প্রকাশকের আনুকূল্য পেলে আরও কিছু বই প্রকাশিত হবে।
জন্মদিনে লেখালেখি, সাহিত্য ভাবনা নিয়ে কথাসাহিত্যিক ও রম্যলেখক শফিক হাসানের সঙ্গে কথা বলেছে ‘উন্মেষ’ সাহিত্য সাময়িকী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উন্মেষ সম্পাদক সাজেদুর আবেদীন শান্ত—
শফিক ভাই, আমরা ইনফরমালভাবেই সাক্ষাৎকার শুরু করতে চাই। আপনার ৪২তম জন্মদিন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা। জন্মদিনে কী করতে ভালোবাসেন? জন্মদিনের একটা স্মৃতি বলুন।
শফিক হাসান : জন্মদিনকে আদতে কোনো উৎসব হিসেবে উদযাপন না করতেই ভালোবাসি। জীবন যাদের সার্থক, দেশ ও সমাজে যারা অবদান রাখতে পেরেছেন জন্মদিন উদযাপন করা তাদেরই মানায়। এই দিনটায় কেউ একটু মাতামাতি করলে বরং আমি বিব্রত বোধ করি। আগে দৈনিক কাগজে চাকরি করতাম। বোধকরি সেখানে দুই বছরে দুইবার জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে, শেষবার (তৃতীয়) এমনটি টের পেয়ে আমি সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করার চেষ্টায় ছিলাম। তখন আমাদের বস বলেছিলেন, অনুষ্ঠান হবে, কেক কিনতে পাঠাচ্ছি কিছুক্ষণের মধ্যে।
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলাম, “আমার ছেলেরা যেখানে ভাত-মাছ খেতে পায় না, সেখানে আমি জন্মদিনের কেক খেলে পাপ হবে।” এটা বলে অফিস ত্যাগ করেছিলাম। অফিসে নিয়মিত বেতন হচ্ছিল না তখন। বাসা ভাড়া দিতেই ত্রাহি অবস্থা কর্মীদের। সংবাদপত্র আরও সংকটের দিকে যাচ্ছে। এসবের মধ্যেই আমাদের জন্মদিন আসে, সেটা আবার উদযাপনও করতে হয়! কেক খাওয়ার আগে মোটা চাল ও ন্যায্য মূল্যে আলু কেনার স্বাধীনতা চাই। খেয়ে-পরা বাঁচার জীবনই যদি না থাকে, তবে কীসের জন্মোৎসব!
৪২ বছরের এই জীবনে ২৩টি বই প্রকাশ হয়েছে আপনার। আরও কয়েকটি প্রকাশের অপেক্ষায়। অনুভূতি কেমন?
শফিক হাসান : বই প্রকাশ পেলে আনন্দের অনুভূতির চেয়ে দুর্ভোগের অনুভূতিই বেশি সামনে আসে। বই তো বিক্রি হয় না। বই বিক্রি না হলে প্রকাশকের মুখ কালো হয়ে যায়। “কোন ছাতার লেখক” আড়ালে আবডালে এমন খেদোক্তিও প্রকাশ করেন কেউ কেউ। তাই জন্মদিন যেমন বড় কোনো উৎসব নয়, বই প্রকাশও আনন্দের কোনো অনুষঙ্গ নয়। প্রচ্ছদ পোস্ট করলে ফেসবুকে লোকজন অভিনন্দন জানায় বটে, এটা শুধু বলার জন্য বলা। বিক্রিতে কোনো প্রভাব পড়ে না বললেই চলে। আদতে বাংলাদেশে লেখালেখির মতো আত্মঘাতী বিপদ আর হয় না!
লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?
শফিক হাসান : শৈশব থেকেই প্রচুর পড়তাম। ইত্তেফাকের কচি-কাঁচার আসর ছিল ভীষণ প্রিয়। রহস্যপত্রিকা, কিশোরপত্রিকা, ঢাকা ডাইজেস্ট পড়তাম। বিনোদন ম্যাগাজিন তো ছিলই। নীহাররঞ্জন গুপ্ত, ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা সিরিজসহ সেবা প্রকাশনীর বই গোগ্রাসে গিলতাম। পড়াপড়ি থেকেই লেখালেখির ভূতটা মাথায় চাপল।
বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় ফান ম্যাগাজিনে আপনি রম্য লিখেছেন। রম্যলেখার শুরুটা যদি বলতেন!
শফিক হাসান : একটু আগেই বলেছি, প্রচুর পড়তাম। এই পড়ার মধ্য দিয়েই সামনে আসে প্রথম আলোর রম্য-বিদ্রূপ ম্যাগাজিন আলপিন; এরপর যুগান্তরের বিচ্ছু। এই দুটো সম্পাদনা করতেন সুমন্ত আসলাম ও আশীফ এন্তাজ রবি। এরপর পাই দৈনিক মানবজমিন থেকে প্রকাশিত “খবর আছে”, সম্পাদনা করতেন আহসান কবির। বছর শেষ হওয়ার আগেই ম্যাগাজিনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আহসান কবির যোগ দেন আমার দেশ পত্রিকায়, সেখান থেকে প্রকাশিত হতো ভিমরুল। এমন আরও ম্যাগাজিনের সঙ্গে আহসান হাবীব সম্পাদিত দেশের একমাত্র কার্টুন ম্যাগাজিন “উন্মাদ” তো ছিলই।
পড়তে পড়তে একটু একটু করে লেখা শুরু করলাম। রম্য ম্যাগাজিনে প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিল যুগান্তরের বিচ্ছুতে, ২০০০ সালের ৩০ জুনে। এর আগে রহস্যপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল একটি চিঠি। মার্চ ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে। সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেন তখন রহস্যপত্রিকার শেষ পৃষ্ঠাগুলোতে পাঠকের চিঠির জবাব দিতেন।
রম্য সাহিত্যিকদের মধ্য আপনার প্রিয় কে? কে আপনার অনুপ্রেরণা এবং কেন?
শফিক হাসান : আহসান হাবীবের লেখা ভালো লাগে। শায়ের খান কল্লোল আরেকজন মাস্টারপিস রম্যলেখক। এমন আরও অনেকেই আছেন। যারা এখন আর লেখেন না। তবে রসবোধ অনেক “সিরিয়াস” লেখকের মধ্যেই পাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে হুমায়ূন আহমেদ— প্রায় সবার লেখাতেই রম্যরস খুঁজে পেয়েছি। ভালো লেখক মানেই বোধকরি রম্য-রসের আধার।
ওই অর্থে অনুপ্রেরণা আদতে কেউ নেই। মূল অনুপ্রেরণাটা আসে নিজের ভেতর থেকে। অন্তর্গত তাগিদ থাকাটা জরুরি, নইলে কেউ লেখক হতে পারেন না। অনুপ্রেরণা নিয়ে খুব বেশি দূর এগোনোও যায় না।
আপনার 'ঘুমের বাদ্যে রাষ্ট্র নাচে' কবিতার বইটি নিয়ে কিছু বলুন?
শফিক হাসান : ছোটবেলা থেকেই পরিমাণে অল্প হলেও কবিতা লিখেছি। এখনো লিখি। কিন্তু এগুলোকে ঠিক কবিতা মনে হয় না। আর বাজারে কবিতার বইয়ের নামে যেসব বিক্রি হয়— তুলনা করলে সেসব থেকে নিজের কবিতাকে খুব একটা খারাপ মনে হয়নি! পাণ্ডুলিপি গোছানোর পর দেশ পাবলিকেশন্স-এর প্রকাশক অচিন্ত্য চয়নকে বলি। তিনি পাণ্ডুলিপি পাঠাতে সম্মতি জানালে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। যদিও নামটা তিনি নিজেই বাছাই করে দিয়েছিলাম। পরে সেই সেই নামটাকে ধরে আমি একটা কবিতা লিখে ফেলি। দীর্ঘ সেই কবিতা কাটছাঁট করে প্রকাশিত হয়েছিল মানবকণ্ঠ সাময়িকীতে।
লোকে বলে, কবিতার বই নাকি বিক্রি হয় না! তবে আমার “ঘুমের বাদ্যে রাষ্ট্র নাচে” বইটি বিক্রি হয়েছিল সাত কপি। এমনকি আমার প্রিয় লেখক ও শিল্পী নির্ঝর নৈঃশব্দ্যও বইটি কিনেছিলেন বইমেলার স্টল থেকে। এটা নিঃসন্দেহে ভালোলাগার বিষয়। কবিতার মান দেখে কিছু মানুষ হয়তো গালমন্দ করেছে— তা করুক। আমার আবর্জনা আমি উৎপাদন না করলে কে করবে!একটা লেখায় পেয়েছি, ‘শফিক হাসান সময়ের প্রতিনিধিত্বশীল কবি'। কিন্তু আমি যতদুর জানি কবি বা কবিতার প্রতি আপনি বিমুখ, মানে আমার মনে হয়েছে। এর কারণ কী?
শফিক হাসান : কবি হিসেবে আমি প্রতিনিধিশীল কেউ কিনা, সেটা তো বলতে পারবেন আপনারা। আর যারা আমার পাঠক বা শুভানুধ্যায়ী— তারা। আমি কবিতাবিমুখ হলে শতাধিক কবিতা কীভাবে লিখলাম, কেনইবা লিখলাম! তবে এটা সত্য, সাহিত্য সম্পাদকরা আমার কবিতা প্রকাশ করতে চান না। তারা অন্য ধরনের লেখা নেন, ভুলেও কবিতার নাম মুখে আনেন না। আমি জানি না, সমস্যাটা কোথায়!
আপনার সাথে চলতে ফিরতে অনেক কথায় একটি কথা বেশি এসেছে, আচ্ছা কবিরা কি মানুষ হবে না! অথবা কবিরা মানুষ হবে কেন? এটা বলা বা এমন ভাবার কারণ কী?
শফিক হাসান : এটা একটা বিভ্রান্তিজনক প্রশ্ন। তবে এটা সত্য, একশ্রেণির কবি একটু ইয়ে প্রকৃতির। আউলাঝাউলা ধরনের। একটা উদাহরণ দিই। তখন আমি ভ্রমণবিষয়ক একটা ম্যাগাজিনে কাজ করি। নির্বাহী সম্পাদক পদে কাজ করি। ঈদসংখ্যা প্রকাশের তোড়জোড় চলছে। একদিন একজন কবি কাম অংকন শিল্পী এল। জানাল, সে ঢাকায় নতুন এসেছে। কিছু কাজ পেলে ভালো হয়। আমি তাকে প্রাথমিকভাবে একটা গল্প দিলাম ইলাসট্রেশন করার জন্য।
সে গেল তো গেল, আর তার দেখা পাই না। মোবাইল ফোনও বন্ধ। বছর দুয়েক পরে কাঁটাবনস্থ ম্যাজিক লণ্ঠন অনুষ্ঠানে তার দেখা পাই। জানতে চাইলাম, এমন কাণ্ড কেন করল? সে জবাব দিল, কী আঁকবে, কীভাবে আঁকবে, গল্পের ভেতরে নাকি ঢুকতেই পারছিল না!
অথচ অপরাগতা প্রকাশ করে আমার কাছে এলে থিমটা ধরিয়ে দিতে পারতাম। এই লোকগুলো কবি-পাস হতে চায়, বাস্তব-পাস বা জীবন-পাস হতে চায় না তেমন একটা!
ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। লেখালেখি ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমান সময়ে এর ভবিষ্যৎ কী?
শফিক হাসান : ভবিষ্যৎ দূরে থাকুক, এর বর্তমানই তো নেই! মানুষ বই পড়ে না, বই কেনে না। আর পাণ্ডুলিপি পরিমার্জন করার প্রয়োজন মনে করেন, এমন মানুষের (লেখকের) সংখ্যা দিনদিনই কমছে। আর এই সর্বনাশা সময়ে কোনো কোনো লেখক (!) মনে করেন, তারা যেটা লেখেন সেখানে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকে না। বই প্রকাশও এখন খুব সহজ। নিজেরাই করে ফেলতে পারে!
লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
শফিক হাসান : তেমন বড় কোনো পরিকল্পনা নেই। একটু আগেই বললাম, বইয়ের বাজার মন্দা। কেউ এখন পত্রিকাও পড়ে না। পাঠক নেই। গুটিকয়েক পাঠক যারা ছিলেন, তারাও এখন লেখক হয়ে গেছেন। সুতরাং কার লেখা কে পড়বে! তাই নিজের হতাশাবাদী পরিচয় প্রকাশ করা ছাড়া গত্যন্তর কী?
0 Comments