প্রিন্স
আশরাফ
পেশায়
চিকিৎসক,
নেশায়
লেখক। দৈনিক যায়যায়দিনের সিনিয়র সাব-এডিটর।
রহস্য,
থ্রিলার,
হরর,
অতিপ্রাকৃত, সায়েন্স ফিকশনের পাশাপাশি মূলধারার গল্প উপন্যাসেও তার দক্ষতা সমানভাবে চোখে পড়ে।
উপন্যাস
ছোটগল্প,
ছড়া,
টিভি
নাটক,
অনুবাদ,
শিশু
সাহিত্য-
সাহিত্যের
সব
শাখাতেই
অবাধ
বিচরণ। অপরাধ যাপন, আগুনের ফুল, কাঁটাতারে পুষ্পলতা, অন্ধের শহরে আয়নার ফেরিওয়ালা, আপনালয়, মাটি, রাজশহরের পরী, এখানে শিরদাঁড়া মেরামত করা হয় উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
পুরস্কার
- দেশজ
জাতীয়
পাণ্ডুলিপি পুরস্কার, বৈশাখী টিভি নাট্য পুরস্কার, প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার, বাসাসপ সাহিত্য পুরস্কার, অক্ষরবৃত্ত পাণ্ডুলিপি পুরস্কার, কিশোর কলম পুরস্কার।
করোনাকালীন সময়ে প্রিন্স আশরাফ-এর সাহিত্য চর্চা, সাহিত্য ভাবনা নিয়ে কথা হয় উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকী'র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি ও সম্পাদক সাজেদুর আবেদীন শান্ত—
উন্মেষ
সাহিত্য সাময়িকী'র পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক
অনেক শুভেচ্ছা।
প্রিন্স
আশরাফ : আপনাদেরকেও শুভেচ্ছা।
করোনাকালে লেখালেখি কেমন চলছে?
প্রিন্স
আশরাফ : করোনাকালে লেখালেখি ভালই চলছে। পেশাগত
কাজে চাপ কিছুটা
কম থাকায় লেখার
সময় পাচ্ছি বেশি। সেই
সময়টাকে লেখালেখির কাজে লাগানোর
চেষ্টা করছি।
লেখালেখির ক্ষেত্রে দেশি বিদেশি
কোন লেখক আপনাকে
বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে?
প্রিন্স
আশরাফ : একজন লেখকের
অনুপ্রেরণা অনেক জায়গা
থেকেই আসে, বিদেশী
লেখকদের ক্লাসিক লেখাগুলো থেকেও যেমন
আসে, তেমনি সমসাময়িক
দেশী লেখকদের লেখা থেকেও
আসে।
লেখালেখির ক্ষেত্রে কাকে আদর্শ
মানেন?
প্রিন্স
আশরাফ : লেখালেখির ক্ষেত্রে লেখাটাকেই আদর্শ হিসাবে
মানি।
আপনি কখন
নিজেকে লেখকরূপে আবিষ্কার করলেন?
প্রিন্স
আশরাফ : লেখালেখির শুরু- সুদূর
কৈশোরে। স্কুল ম্যাগাজিন
প্রতিভায় লেখা দিতে
হয়েছিল। মেধাবিদের অবশ্যই কিছু
না কিছু লিখে
জমা দিতে হবে। ছড়া,
কবিতা, গল্প যাই
হোক। লাইব্রেরি থেকে অনেক
বই এনে পড়ার
অভ্যাস থাকলেও লেখা
হয়নি কখনও। তখন লিখতে
শুরু করলাম।
লেখার সময়
পাঠকের কোনো চাহিদার
দিক বিবেচনায় রাখেন কি?
প্রিন্স
আশরাফ : লেখার সময়
পাঠকের চেয়ে নিজের
লেখার আনন্দটাই মাথায় রাখতে
চাই। তবে পাঠকের
কোন দিক বিবেচনার
কথা বললে বিষয়
বৈচিত্র্যের দিকটাকেই বিবেচনায় আনতে চাই। সেকারণে
রহস্য গল্প, সাইন্স
ফিকশনও যেমনি লিখি
তেমনি বাস্তবতায় মোড়ানো চেনা
গল্পও লিখি।
আপনার লেখায়
রহস্য, থ্রিলার, হরর, অতিপ্রাকৃত,
সায়েন্স ফিকশনের গন্ধ পাই। কথা
হলো, বাংলা সাহিত্যে
এ ধরনের লেখা
আরও আছে। কিন্তু, আপনার
লেখা অন্যদের থেকে ভিন্ন। আর
এই ভিন্নতা হলো, আপনার
উপস্থাপনাশৈলি, ভাষাগত সৌন্দর্য,
শব্দের উপযুক্ত ব্যবহার। লেখার এই
যে বৈশিষ্ট্য এটা আপনি
কীভাবে রপ্ত করলেন?
প্রিন্স
আশরাফ : আবারও একই
কথা বলতে হয়,
পড়তে পড়তে। কিশোরকাল থেকেই তিন
গোয়েন্দা সিরিজ, নীহাররঞ্জন
গুপ্তের কিরীটি রায়,
প্রেমেন্দ্র মিত্রের ঘনাদা, সেবার
কুয়াশা সিরিজ এসব
পড়তে পড়তেই রহস্য
ঘরানার লেখার প্রতি
আগ্রহ জন্মে। নিজের মতো
করেই লিখতে লিখতে
নিজের একটা বৈশিষ্ট্য
হয়তো দাঁড়িয়ে গেছে। আমি ঠিক
জানি না, পাঠকই
ভালো বলতে পারবে।
অনুবাদেও আপনি সিদ্ধহস্ত।
আপনার অনূদিত নিউ
মুন, ইক্লিপস, দি হোস্ট,
আলেফ যখন প্রকাশিত
হয় তখন পাঠকের
কাছ থেকে ব্যাপক
সাড়া পান। এই
অর্জন আপনি কীভাবে
দেখেন?
প্রিন্স
আশরাফ : অনুবাদ করেছি
অনেকটা পেটের দায়ে।
মৌলিক লেখায় প্রকাশকরা
রয়েলিটি দিতে টালবাহানা
করেন, কিন্তু অনুবাদের
সম্মানি তারা আগেই
দিতে চান এবং
ঠিকঠাকভাবেই দেন, এ
কারণেই অনুবাদে হাত দিয়েছিলাম।
কিন্তু যখন বুঝলাম
অনুবাদ আমার কাপ
অব টি নয়,
তখন বাদ দিলাম।
এখন আর অনুবাদ
করি না।
আপনি কাদের
বই পড়তে ভালোবাসেন?
প্রিন্স
আশরাফ : আমি সর্বভূক
পাঠক। নোবেল বিজয়ী
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ যেমন পড়ি
তেমনি ড্যান ব্রাউনের
ভিঞ্চি কোড পড়ি।
হারুকি মোরাকামি পড়ি আবার
হূমায়ুন আহমেদ পড়ি।
আপনি বিভিন্ন
সময়ে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং পেয়েছেন পাঠকের ভালোবাসা।
কোনটির মূল্য আপনার
কাছে বেশি পুরস্কার
না পাঠকের ভালোবাসা এবং কেনো?
প্রিন্স
আশরাফ : অবশ্যই পাঠকের
ভালবাসা। পুরস্কার পাঠকের কাছে
পৌছানোর মিডিয়াম হিসাবে কাজ
করে। এখন এতো
এতো লেখক, এতো
এতো বই লেখা
হয়, পাঠককে হয়তো
লেখককে খুঁজে পেতে
সমস্যা হয়। আমি
মনে করি, অনেক
সময় পুরস্কার সেই সমস্যাটার
সমাধান করে।
আপনার লেখা
গল্পে নাটক নির্মিত
হয়েছে এবং কিছু
কাজ হচ্ছে। এ
সম্পর্কে আপনার ভবিষ্যৎ
পরিকল্পনা কী?
প্রিন্স
আশরাফ : আমার লেখা
গল্প নিয়ে বৈশাখি
টিভি ও বাংলাভিশনে
খন্ড নাটক হয়েছে।
এর পরে কিছু
শর্টফিল্মের গল্প লিখেছি।
কিন্তু এ ব্যাপারে
তেমন কোন ভবিষ্যৎ
পরিকল্পনা নেই। কেউ
গল্প নিয়ে নাটক
করতে চাইলে সেক্ষেত্রে
অন্য কথা।
ধন্যবাদ আমাদেরকে এতক্ষণ সময়
দেওয়ার জন্য।
প্রিন্স
আশরাফ : আপনাকেও ধন্যবাদ।
0 Comments